কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ এক মাস রমজানের রোজা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য প্রস্তুত দেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঈদগাহে এবছর অনুষ্ঠিত হবে ঈদ-উল ফিতরের ১৯৮তম ঈদ-জামাত।
আজ শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী শোলাকিয়া মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন। পরে র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল হাসান সাংবাদিকদের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি নিয়েও সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
সকাল ১০ টায় ঈদের জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদ জামাতে জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া আর কিছু সঙ্গে না আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জামাতের জন্য ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১৯৮ তম পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, সারাদেশ ও বিদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা ঈদের নামাজের জন্য আসবেন। যারা এক থেকে দুইদিন পূর্বে চলে আসেন তাদের জন্য ৩টি পৃথক স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো, আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, শোলাকিয়া কুমুদিনী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাগে জান্নাত নূরানি মাদ্রাসা। তাদের জন্য বিনামূল্যে ইফতার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, এবার ঈদগাহ পর্যবেক্ষণের জন্য ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি ড্রোন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম মাঠে অবস্থান করবে। পুলিশ, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে জেলা শহরসহ ঐতিহাসিক ঈদগাহ মাঠ।
এদিকে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ভৈরব- কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ও ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ লাইনে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল` নামে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে বলেও জানান।
শোলাকিয়া মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেয়া হবে।
জানা যায় সুদূর ইয়েমেন থেকে ইসলামি ঐশীবাণী নিয়ে হযরত শাহ সৈয়দ সফি আহমেদ রহ. কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে আগমনের পর ১৮২৮ সালে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে ইমামতি করেন। তখন তাঁর আধ্যাত্মিকতায় আকৃষ্ট হয়ে প্রায় সোয়ালাখ মুসল্লি উক্ত জামাতে অংশগ্রহণ করেন। সেই থেকে সোয়ালাখ সংখ্যা বাচক শব্দ থেকে সোয়ালাখিয়া নামটি প্রাধান্য পায়। শব্দের বিবর্তনে সোয়া লাখিয়াতে শোলাকিয়া নাম ধারণ করে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২১. © হাওর টাইমস ২৪, এই ওয়েবসাইটের কোনো, লেখা, ইমেইজ, ভিডিও চিত্র, অডিও, অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ যোগ্য।